চট্টগ্রামে জেএমসেন হলের পুজার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমি নামের গান
চট্টগ্রামে জেএমসেন হলের পুজার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমি নামের গানের দলের ইসলামী গান গাওয়ার ঘটনাটা প্রথমে প্রচণ্ড ইন্সেন্সিটিভ মনে হলেও, যত বেশী তথ্য জানতে পারছি তাতে মনে হচ্ছে, ঘটনার চেয়ে ঘটনার প্রতিক্রিয়া বেশী ইন্সেন্সিটিভ হচ্ছে - এবং মনে হইতেছে আমাদের সমাজ এমন এক অসহিস্নুতায় পৌঁছেছি যে, আমরা চাইলেও আর স্বাভাবিক হইতে পারবো না।
প্রথমত, ঘটনাটা শুনে মনে হয়েছিল, পুজার মন্ডপে জোর করে শিবিরের ছেলেরা ইসলামী গান গেয়ে আসছে । সেই ভাবেই ঘটনাটা ফ্রেম করা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আয়োজকরাই চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমি নামের গ্রুপটাকে দাওয়াত দিয়েছিল, গান গাইতে।
শুনলাম পুজা কমিটির যে সদস্য দাওয়াত দিয়েছিল, তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।
কেন ?
শিবিরের ছেলেরা পুজার অনুষ্ঠানে জোর করে ইসলামী গান গেয়েছে, সেই পারসেপশান ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে ?
গানের সিলেকশান নিয়ে আলাপ শুনলাম। আলাপ আসছে, শাহ আব্দুল করিমের গান টা ঠিক আছে, কিন্তু,, কেবল মুসলমানের লাগি গানটা ঠিক নাই।
আমার বিপ্লব পরবর্তী সব চেয়ে প্রিয় ইন্টেলেকচুয়াল Tuhin Khan এর বিশ্লেষণ পড়লাম যে, সম্প্রীতির গান মনে হইলেও এইটা ইসলামী বিপ্লবের গান।
প্রশ্ন হইলো আপনি কেন ভাবতেছেন, আপনার রাজনৈতিকতার বোধ এবং একটা নন ইন্টেলেকচুয়াল গানের দলের রাজনইতিকতা বোধ একই হবে।
যে গানের কলিতে আছে,
ভিন ধর্মের কারো উপরে যদি
কোন মুসলিম করে অবিচার
শেষ বিচারে রাসুল নিজে
দাঁড়াবে বিপক্ষে তার
ইয়েস এইটকে ইসলামিক সুপ্রিমেসির গান হিসেবেও দেখতে পারবেন এবং ফাইনালি দাওয়াত আছে কিন্তু, আপনি চাইলে এইটাকে সম্প্রিতির গান হিসেবেও দেখতে পারবেন- এইটা সম্পূর্ণ ভাবে টেস্টের উপরে নির্ভর করবে।
আপনার আমার টেস্ট আর চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমির গায়কদের সাংস্কৃতিক বোধ একই না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, তারা পুজার অনুষ্ঠানে গান চয়েজ করার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিল, যেইটা আমাদের সেকুলার নেটিজেনদের টেস্টে কুলায় নাই।
এই টুকু বেনেফিট অফ ডাউট আমি তাঁদের দেই।
কারন, একটা কালচারাল অনুষ্ঠানে এই গান টা ঠিক হচ্ছে কিনা, সেইটা নির্ভর করতেছে, মুল প্রেমিজটার উপরে যে তারা জোর করে উঠে গান গেয়েছে, নাকি তাঁদেরকে গান গাইতে আহবান জানানো হয়েছে।
এবং প্রশ্ন সেইটাই।
আওয়ামি ফ্যাসিস্টরা যে বয়ান ছড়াইছে,
শিবিরের ছেলেরা জোর করে উঠে এই গান গেয়েছিল সেইটা সঠিক কিনা, নাকি তাঁদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল ?
এইটা স্পস্ট যে, পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্ত চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে গান গাইতে, তারা জোর করে পুজার মন্ডপে উঠে গান গায় নাই।
আমার মতে সেই অনুষ্ঠানে, চট্টগ্রাম কালচারাল অ্যাকাডেমিকে দাওয়াত দেওয়া, সেই দাওয়াতে তাঁদের এই দুইটা গান গাওয়া কালচারালি ইন্সেন্সিটিভ কিন্তু, সকল পক্ষ গুড স্পিরিটেই কাজটা করেছে- বড় কোন অপরাধ হয় নাই।
বরং একটা ঘটনার ডিটেলস প্রকাশিত হওয়ার আগে, অল্প অল্প কিছু তথ্য দিয়ে
মুসলমান মানেই কুপা ন্যারেটিভকে এস্টাব্লিশ করার যে ইম্পালস আমাদের সেকুলার মনে আছে, সেইটার একটা বহিপ্রকাশ দেখলাম।
ধন্যবাদ।
https://www.facebook.com/
61564978372649/posts/122117865650499279/?rdid=bCnl0cIBgus9fWRw
Comments
Post a Comment