Posts

Showing posts from November, 2024

প্রথম আলো আপনাকে 'নাই' করে দিতে চায়।

 আপনি হতে পারেন শিবির বা ছাত্রদল কিম্বা হেফাজতে ইসলাম অথবা অন্য কেউ। হতে পারে এটাই প্রথম আলোর এজেন্ডা। এই কারণেই হয়তো সে ইনভেস্ট করে রেখেছে শত শত কোটি টাকা। এইযে কাউকে কাউকে কোন আলোচনা থেকে 'নাই' করে দেয়ার কিম্বা কাউকে কাউকে 'নাই' থেকে অস্তিত্ব দেয়ার যে ব্যাপারটা সেটাকে আপনি পেশাদার সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে 'অনৈতিক' বলতে পারেন, কিন্তু এটাকে 'অপরাধ' হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন না। এবং এর জন্য তাকে আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে শাস্তিও দিতে পারবেন না। ভেবেন দেখুন, আপনিও কিন্তু চান প্রথম আলোকে 'নাই' করে দিতে। এই যে গত ক'দিন ধরেই বহু মানুষ প্রথম আলোকে 'নাই' করে দেয়ার স্লোগান দিচ্ছেন। অল্প সংখ্যক হলেও কেউ কেউ 'আগুন জ্বালিয়ে' হলেও 'নাই' করে দিতে চান। কিন্তু যারা এইভাবে জ্বালিয়ে 'নাই' করতে আগ্রহী তাদেরকে কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে শাস্তির আওতায় আনা যায়! তখন আপনিই 'নাই' হয়ে যাচ্ছেন! এইটা হইলো একটা বেসিক পার্থক্য প্রথম আলো'র 'নাই' করে দেয়ার প্রকল্পের এবং প্রথম আলোকে 'নাই' করে দেয়ার কিছু মানুষের প্রকল্পের ...

প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার বয়কটের প্রসঙ্গ আসলেই আমরা ‘বিকল্প দেখান তত্ত্ব’ হাজির করি।

 কিন্তু প্রথম আলোর বিকল্প কেন নেই—সেই প্রসঙ্গে আমরা খুব একটা আলোচনা করি না। আমাদের অনেকের ধারণা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার যেহেতু ইসলামোফোব, সেহেতু নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা থাকলে (মানে মোটাদাগে ইসলামী পরিবেশ থাকলে) ও ভালো স্যালারি পাওয়া গেলে খুব সহজেই একটা প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের বিকল্প তৈরী করে ফেলা সম্ভব! তবে আমি বিষয়টাকে এতটা সহজ বলে মনে করি না। কোনো গণমাধ্যম তখনই মানসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে যখন তা সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি কর্তৃক মানসম্মত হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। প্রথম আলো পড়ে একজন মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক সন্তুষ্ট হন, অন্যদিকে একজন ফকিন্নিরও খবর পড়ার ‘চাহিদা মেটে’। কিন্তু বিকল্পগুলো পড়ে ফকিন্নিদের চাহিদা মিটলেও তা এলিট ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সন্তোষজনক হয় না। কেন হয় না—এই প্রশ্নের উত্তর কোয়ালিটেটিভ এবং কোয়ান্টিটেটিভ গবেষণার মাধ্যমে বের করে আনা সম্ভব। আমরা কোন রিসার্চটা করেছি?  আমি একটা হাইপোথিসিস দিচ্ছি। প্রথম আলোর এই গ্রহণযোগ্যতার কারণ হলো তারা শুধু ‘খবরের’ মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখেনি। তারা সব স্তরের পাঠককে পাঠক হিসেবে সম্মান করার একটা রাস্তা খুঁজেছে। খবর পরিবেশন করাটা...

সৈয়দ আলী আহসান কে ছিলেন?

 কবি সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন টুপি পরা ও দাঁড়ি রাখা একজন ভারতীয় সেবাদাস। পাকিস্তান আমলে সুবিধাজনক চাকুরি থাকার পরও তিনি ভারতের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন।  পাকিস্তান আমলে প্রথমে পাকিস্তান রেডিও তারপরে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ  চালু হলে তিনি ওই বিভাগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এরপর বাংলা একাডেমির প্রধান নিযুক্ত হন।  ৭১ এ যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে কবি আলী আহসান কলকাতায় চলে যান। সেখান থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভূমিকা রাখেন। ভারতীয় কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সমন্বয় করে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষে ক্যাম্পেইন করেন।  স্বাধীন হওয়ার পর পরই মুজিবের সাথে দেখা করেন ও জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ চেয়ে নেন। ওনার ধানমন্ডির বাসায় নিয়মিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ও অন্যান্য বেসামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক হতো।  ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে রক্ষীবাহিনী গঠনের পরামর্শ ও জাবি'র জায়গা রক্ষীবাহিনীকে দেওয়া আলী আহসানেরই কাজ।  সৈয়দ আলী আহসানরা ইসলামের দোহাই দিয়ে মুজিবের অপশাসন টিকিয়ে রাখা যায় সে কাজই করে গেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান নিয়ে ...

১৯৮৯ এর ১৫ আগস্ট ও তারপরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল?

 এটি এখন থেকে প্রায় ৩৫ বছর পূর্বের ঘটনা। ঐদিন দুপুরে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশনের একটা রুমে একতরফাভাবে একজন ছাত্রকে পেটানো হয়। রাতে আবার পরিকল্পিত ভাবে একটি ছাত্রসংগঠনকে ক্যাম্পাস থেকে উৎখাতের নিমিত্তে চালানো হয় হামলা। প্রতিরোধে লেগে যায় ছাত্রসংঘর্ষ। আহত হন অনেকে। পরেরদিন পত্রিকায় খবর আসে একজনের মৃত্যুর। কিন্তু সত্যিকার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সংঘর্ষের আরো কয়েকদিন পর ঢাকা মেডিকেলে। ঘটনাটা হল ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সংঘর্ষের। কুমিল্লায় এক ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে একজন ছাত্র নিহত হয়। এরই প্রেক্ষিতে ছাত্রদল ঢাকা আলিয়া ও অন্যান্য জায়গায় তাণ্ডব চালায় ও কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ১৫ আগস্ট ১৯৮৯ আমাদের প্রথম বর্ষ ফাইনালের আগে সর্বশেষ ক্লাস শেষ করে সালাম-বরকত হলে আমার কামরায় ফিরে আসছিলাম। পথে খবর পেলাম আমাদের ব্যাচমেট ভূগোলের ছাত্র ও শিবিরের সাথী নাদিরকে আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশনে তার কামরায়  ঢুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রদলের কিছু ছেলে। এরা নাদিরের পূর্বপরিচিত এবং বন্ধু। নিজের পরীক্ষার পড়া তৈরি নিয়ে ব্যস্ত নাদির এর রুমে এরা আসতে চাইলে তিনি তাদের সাদ...

প্রথম আলোর শয়তানী

Image
 একটা দেশের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে প্রভাবশালী, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে একাডেমি কোয়ালিটি, মানসম্পন্ন শিক্ষক, আন্তর্জাতিক রাঙ্কিং এ বাজে অবস্থান, ইন্ডাস্ট্রি উপযোগী শিক্ষা দক্ষতা তৈরির ব্যর্থতা, অতি স্বল্প গবেষণা বাজেট, দীর্ঘ সেশন জট, বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার- ইত্যাদি মৌলিক বিষয় গুলোকে সাক্ষাৎকারের ফোকাস না করে এসব ব্যক্তিগত প্রশ্ন এবং আইডেন্টিটি  poking করার মানে কি? সংবাদ মাধ্যম এ ধরনের ঝোঁক থেকে বাঁচবে কবে? পেশাদার সাংবাদিকতা বাদ দিয়ে অ্যাক্টিভিজম এবং রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া দেশের প্রধানতম পত্রিকার কাজ হতে পারে না।। ব্যক্তির জাতীয়তাবোধ থাকা, বিশেষ রাজনৈতিক দর্শন থাকা, তার গান শুনা, ব্যক্তির ধার্মিকতা, তার বিনোদন এবং যাপিত জীবনের সম্পর্ক থাকা, জাতীয় স্থানে তার গমন, জাতীয় প্রতীকে তার ভাল লাগা- এগুলা প্রাইভেসি সম্পর্কিত। এই বিষয় দিয়ে কিংবা পাবলিক পরিসরের পরিচয় দিয়ে ব্যক্তি যদি কোন প্রতিষ্ঠানিক দায়িত্বে অবহেলা করেন, রাষ্ট্রের ক্ষতি করেন তাইলে, একটা এক্সকিউজ থাকে বটে! ঢাবি ভিসি তার ব্যক্তিগত জীবনবোধ দিয়ে কী কী পাবলিক ক্ষতি করেছেন? তাছাড়া ৫৩ ব...

মির্জা ফখরুলের সিঙ্গাপুর ভ্রমণের ব্যাপারে বেশকিছু ইন্টারেস্টিং তথ্য পেলাম।

 ২৪ আগস্ট, ২০২৩  মির্জা ফখরুল সিঙ্গাপুরে যান চেকআপের জন্য। ফেরত আসেন সেপ্টেম্বরে। ঠিক এই সময়ে সিঙ্গাপুরে ভা-র-তে-র গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী অবস্থান করছিল। ফাইনান্স মিনিস্টার নির্মালা সিতারামান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পিয়ুস গোয়াল তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।  বিগত ৫ সেপ্টেম্বর  হাসিনা পালানোর ১ মাস। মির্জা ফখরুল আবারও চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে। এসময় সিঙ্গাপুরে কে এসেছিল আপনাদের মনে আছে? স্বয়ং ন*রে*ন্দ্র মো*দী।  ৪ মার্চ ২০২৪  চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুল। ১৯ দিনের মতো অবস্থান করেন। ১৩-১৫ মার্চ Indian Coast Guard এর Director-General এর নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বহর সিঙ্গাপুরে আসে মিটিং করতে। এখানে ভারতের National Security Advisor অজিত দোভালের উপস্থিতির গুঞ্জন শোনা যায়। তবে প্রকাশ্য সোর্স পাওয়া যায় নাই। অজিত দোভালকে বলা হয় ভারতের জেমস বন্ড, সে ট্রেস রাখতে পছন্দ করে না। ২৩ মার্চ আবার ভা*র*তে*র পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করও সিঙ্গাপুরে ছিলেন।  দেখা যাচ্ছে মির্জা ফখরুল যখনই চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে যান, তখনই ভা*র*তে*র কোনো না কোনো হাই অফিসিয়া...

প্রথম আলো ডেইলি স্টারের পক্ষে অবস্থান

Image
 বিএনপি, জামাত, চরমোনাই, খেলাফতে মজলিস, গনঅধিকার, এবি পার্টি, নাগরিক কমিটি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে গতকাল (২৮শে নভেম্বর) প্রথম আলো ডেইলি স্টারের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছে। সংবাদপত্রের মালিকদের ডাকা এই অনুষ্ঠানে সমকালের মালিক ও ফ্যাসিস্ট ভোটচোর এমপি একে আজাদ গোয়েবলস এডিটর ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিপ্লব শেষ হয়ে গেল। আমরা স্বীকৃতি দিয়ে দিলাম যে ফ্যাসিস্ট প্রোপাগান্ডা গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতিটা রাজনৈতিক শক্তিই এই স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি নাগরিক কমিটিও। আলো-স্টারসহ ফ্যাসিস্ট এস্টাবলিশমেন্ট আমাদের ব্ল্যাকমেইল করছে। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা কিংবা ক্যুয়ের ভয় দেখিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে। আর বিএনপি-জামাত থেকে শুরু করে সবাই এই ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি শিকার করছে না। কেউ জনগনকে সাথে নিয়ে এই থ্রেট মোকাবেলা করার সাহসিকতাটা দেখাচ্ছে না। এটার শুরু হয়েছে আলো-স্টারের সামনে হঠকারি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ময়দান প্রস্তুত না করে কোন আন্দোলন করা যায় না। কিন্তু ময়দান প্রস্তুত না করেই একদল লোক আলো-...

আর জে কিবরিয়া ঘোষণা দিয়ে ডেইলি স্টারের এওয়ার্ড থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন।

 সেদিন দেখলাম এক ইউনিভার্সিটির টিচারও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বললেন, প্রথম আলো আর ডেইলি স্টারের পক্ষে বিবৃতি তিনি দেননি।  প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার ছিলো বাংলাদেশের মিডলক্লাসের একটা স্ট্যাটাসের জায়গা।  সেই জায়গা ধীরে ধীরে সরতে শুরু করেছে।  বাসায় প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার রাখা এক সময় সম্মানের ছিলো, ভবিষ্যতে এইটা লজ্জার হতে যাইতেছে। নিজেদের অপসাংবিদকতা আর কালচারাল ফ্যাসিজমকে এই পত্রিকা দুইটা এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে, মানুষ এখন এইটাকে সামাজিক প্রতিরোধ করা শুরু করবে।  বিশেষ করে গতদিনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি করা আর সেই গুলিকে ডেইলি স্টারের সাংবাদিকদের সেলিব্রেট করাটা মিডল ক্লাস ভালোভাবে নেবে না। বরং মানুষ এখন এদেরকে খুব শক্তিশালী এবং জালিম ভাবতে শুরু করবে।  অদূর ভবিষ্যতেই আমরা দেখবো, নামকরা নায়ক নায়িকারা আর জে কিবরিয়ার মতো ঘোষণা দিয়ে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার বর্জন করবে।  কারণ দিনশেষে আর্টিস্টরা মানুষের উপর নির্ভরশীল। আর এরা যেহেতু মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়া গেছে, মানুষ আর প্রথম আলোর প্রশ্নে আর্টিস্টরা মানুষ চুজ করতে বাধ্য।  প্রথম আলো আর ডেইলি...

সাকিবের বাপ

Image
ছাত্র জনতার আন্দোলনে সাকিবের বাবার নেতৃত্বে মাগুরায় ঘটে ২ হত্যাকান্ড।  অথচ মাগুরায় এই দুই হত্যাকাণ্ড এবং প্রায় তিন ডজনের বেশি ছাত্র জনতা আহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাকিব বা তার বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। বিএনপির কর্মীদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আছেন সাকিবের আত্মীয়-স্বজনরা। জ্যেষ্ঠ এই নেতারা সাকিব পরিবারের বিরুদ্ধে কৌশলে মামলা করতে দেননি।  ৪ আগস্ট মাগুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ছাত্রদল নেতা রাব্বি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার  সময় তিনি (রাব্বি) বলে গেলেন, “কোনো অবস্থাতেই রাস্তা ছাড়বি না।”’ কোনো অবস্থাতেই রাস্তা না ছাড়তে বলা রাব্বিরা বেইমান না। বেইমান ক্ষমতার মধু খাওয়া বড় বড় নেতারা।  হয় এসব নেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হও অথবা ইউজড হওয়ার রাজনীতিকে বিদায় জানাও।   

ইসলাম বিদ্বেষ - ফটোকার্ড

Image
 

ভারতীয় হাইক‌মিশ‌নের জাতীয় পার্টি

 ১ ডিসেম্বর ২০১৩। দুপুরে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভরায় ফোনে জানালেন, এরশাদ সাহেব ডেকেছেন।  বিকেলে বারিধারায় গিয়ে দেখি শুধু আমাকে নয় প্রথম আলোর সেলিম জাহিদ ভাই, ইত্তেফাকের শামসুদ্দিন ভাই, বাংলাদেশ প্রতিদিনের শফিকুল ইসলাম সোহাগকে ডেকেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে 'অফ দ্য রেকর্ড' আলাপে এরশাদ সাহেব বললেন, বিএনপি জামায়াতের অবরোধে চারদিকে আগুন। নির্বাচনের পরিবেশ নেই।  সব সাংবাদিক সব নেমে আসার পর আমি আবার যাই এরশাদ সাহেবের কাছে। জিজ্ঞাসা করলাম, নির্বাচনে যাবেন? তিনি জোরের সঙ্গে বললেন, নির্বাচনই হবে না। ফিরে লিখেছিলাম, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার পথ খুঁজছেন এরশাদ। দু'দিন পর এরশাদ সাহেব সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিলেন, নির্বাচনে যাচ্ছেন না। এরপর গায়েব হয়ে গেলেন। প্রয়াত সম্পাদক সারওয়ার ভাই অ‌্যাসাইনমেন্ট দিলেন যেভাবেই হোক এরশাদ সাহেবকে খুঁজে বের করতে হবে। শীতের সন্ধ্যায় গুলশানে গেলাম জাপার এক জ্যেষ্ঠ নেতারা বাসায়। পুলিশ ঢুকতে দেয় না। সেই নেতাকে দুলাভাই পরিচয় দিয়ে ঢুকে গেলাম।  দোতলায় গিয়ে দেখি নেতা বসে আছেন।  আমাকে দেখে চমকে বললেন, 'কেনো এসেছিস?' এর মধ...

হিজাব পরা এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ার কারণে

Image
  হিজাব পরা এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ার কারণে আমার বড় বোন Tamanna Rashid (যিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষণায় রত) এর উপর কী ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়েছে জিনাত হুদা, মাহমুদা আর সাদেকারা, তার বিবরণ পড়ুন- আমি তামান্না রশীদ, ২০১০-২০১১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল, মাস্টার্সের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার সম্পর্কের ইতি ঘটে। বর্তমানে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি গবেষক হিসেবে অধ্যয়ন করছি। মাঝখানে প্রায় ৫ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেছি। সম্ভবত নিজের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে লেখা এটিই আমার প্রথম এবং শেষ স্ট্যাটাস। কোনদিনও এই বিভাগ নিয়ে জনপরিসরে লিখবো তা চিন্তা ও করিনি। কিন্তু বছরের পরে বছর ধরে নিজের সাথে এত অন্যায় এবং অপপ্রচার চলেছে যে সেসব নিয়ে কথা না বললে সেসব অন্যায়ই ধীরে ধীরে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এসব কারণেই একজন সাবঅল্টার্ন ভয়েজ হিসেবে কিছু কথা জানা...

নিরপেক্ষ নির্বাচনে মনসকন্যার ইতিহাস।

Image
 

প্রথম আলো

Image
 প্রথম আলোর আজকের জুলাই বিপ্লবের সংখ্যাতে নাহিদ আছে, আসিফ নজরুল আছে, সাথে আছে মেঘ মল্লার বসু।  শিবিরের সাদিক কায়েম নাই। ছাত্রদলের একটা ছেলেও নাই।  অথচ এই বিপ্লবে একক সংগঠন হিসেবে সবচে বড় কুরবানিটা করেছে ছাত্রদল।  ৯ দফা প্রণয়নসহ সমন্বয়কদের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে শিবির।  আর যারা হাসিনার বি টিম হিসেবে সুবিধা পেয়েছে, শাহবাগের জালিম শক্তি, সেই মেঘ মল্লার বসুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলো আন্দোলনের সামনের যোদ্ধা হিসেবে।  ঠিক এই কাজটাই করা হয়েছিলো ৭১ এ।  জনমানুষের যুদ্ধকে হাইজ্যাক করে একটা বামপন্থী যুদ্ধ হিসেবে প্রচার করা হলো।  অথচ মেঘ মল্লার বসু সাঈদী, কাদের মোল্লাদের বিচারিক হত্যার সহযোগী। হাসিনা যখন বিচারিক হত্যা করেছে, তখন এই মেঘ মল্লার বসু সেইখানে হাসিনার বিচারিক হত্যাকে জায়েজ করেছে।  আর এই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ সাঈদীর মৃত্যুর পর সাঈদীর পক্ষে পোস্ট দিয়েছিলেন। তো যেই আন্দোলন সাঈদীকে ওউন করা আবু সাঈদের রক্তের উপর দিয়ে দাঁড়ালো, সেই আন্দোলন মেঘ মল্লার নামের জল্লাদের আন্দোলন কেমনে হয়?  যেই ওয়াসিম আকরাম তারেক রহমান...

দৈনিক দিল্লির আলো

 ইসকনের হামলার দায় প্রথম আলো চাপাইসে সাধারণ হিন্দুদের উপর।  লিখেছে, ক্ষুব্ধ হয়ে "হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ" হামলা করেছে।  কেমন সুন্দর করে ম্যানিপিউলেট করলো দেখেন। যেন ওরা দুধের বাচ্চা, কিছু বুঝে না, রাগ করে হামলা করে দিয়েছে। অথচ আর্মি পরিষ্কার বলেছে, ওদের একটা বড় প্ল্যান আছে দেশকে অস্থিতিশীল করার।  সামান্য রাগ থেকে কেউ কি যৌথবাহিনীর উপর এসিড হামলা করে?  ইসকন করেছে।  এবং প্রথম আলো এই এসিড হামলাকে কীভাবে নর্মালাইজ করেছে জানেন? লিখেছে, এসিড হামলায় পুলিশ "সামান্য" আহত হয়েছে, বেশি আহত হয় নাই।  সারা নিউজজুড়ে কোথাও ইসকনের নাম নাই। আর্মির কোন বক্তব্য নাই।  এমনকি এক জায়গায় লিখেছে বিক্ষুব্ধ লোকজন নাকি এসিড ছুড়েছে।  মানে এসিড ইসকন ছুড়েনি, বিক্ষুব্ধ লোকজন ছুড়েছে।  এসিড মারার দায় বিক্ষুব্ধ লোকজনের, ইসকনের না।  ভাসুরের নাম মানুষ মুখে নেয় না। প্রথম আলোও ইসকনের নাম মুখে নেয় নাই। এর মাধ্যমে আরো একবার প্রমাণ হলো, প্রথম আলোর ভাসুরের নাম ইসকন। এবং এই কাগজ বাংলাদেশের না,দিল্লীর আনুগত্য করে।

জিনিসপত্রের এতো দাম??

 ধরেন আপনার বাবা খুব খারাপ মানুষ।  নেশা করে, জুয়া খেলে ১০ কোটি টাকা ঋণ রেখে তিনি পালিয়ে গেলেন।  ঋণের টাকায় আপনারেও মাঝেমধ্যে কিছু ভালো মন্দ খাওয়াতো, কিন্তু সব টাকা ঢালতো মদ আর জুয়াতে।  এখন আপনার বাবা পালাইয়া যাওয়ার পর আপনার পরিবারের দায়িত্ব নিলো আপনার বড় ভাই।  সে কি দায়িত্ব নিয়েই আপনাকে ভালো খাওয়াতে পারবে? না। বরং আপনার বাবার লোন শোধ করতে করতে এমন অবস্থা হবে যে, আপনার বাবা আপনাকে যেটা খাওয়াতো, ওটাও আপনার ভাই আপনাকে খাওয়াতে পারবে না।  কেন?  ঐ যে। লোন শোধ করতে হচ্ছে। কেউ আপনার ভাইকে ধার দিচ্ছে না। কোন দোকান থেকে বাকিও দিচ্ছে না। কারণ আপনার বাবা ওসব জায়গা আগেই নষ্ট করে গেছেন।  এখন আপনার ভাই যদি আপনার বাপের লোন শোধ করতে যাইয়া আপনাকে খেতে কম দিতে পারে, তার মানে এই না যে সে কাজ করছে না। বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের হয়েছে সেই অবস্থা।  এই ৩ মাসে সরকারকে খালি বিদ্যুত খাতের বিলই দিতে হয়েছে বিলিয়ন ডলারের বেশি।  এগুলো সবটাই বকেয়া।  আওয়ামীলীগ লুটপাট করে সব খেয়ে গেছে। সব এসে পড়েছে এই সরকারের ঘাডে।  গত তিন মাসে বিপিসি ৫৭৮ মি...

হিন্দুদের জন্য সংখ্যানুপাতে আসন বরাদ্দ চান চট্টগ্রাম জামায়াতের আমির!

Image
  চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন "হিন্দুদের জন্য সংখ্যানুপাতে আসন বরাদ্দ থাকা উচিত। জামায়াতে ইসলামী ১৯৫৪ সালে নির্বাচন ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও এই দাবি তুলেছি।"

কোথায় যেন একটা গল্প শুনছিলাম।

 নদীর মাছেরা একবার আল্লাহর কাছে দুয়া করলো তাদের জন্য একটা নেতা পাঠানোর জন্য। আল্লাহ একটা শুকনা গাছের কান্ডকে নেতা বানায়ায়ে দিলেন। তো মাছ, ব্যাঙ সেই কান্ডের উপর উঠে লাফালাফি করতো আর বলতো এইটা আবার কেমন নেতা? এত ধাক্কাধাক্কি করি তাও কিছু বলেনা? পরে আল্লাহ তাদের জন্য সাপকে নেতা বানায়া দিলেন। এখন সাপ প্রত্যেকদিন ব্যাঙ মাছ খায়। আর মাছেরা আফসোস করে কেনো শান্ত নেতাকে পছন্দ করলাম না। ... যাই হোক, এই সরকারের সমালোচনা করবো, তাদেরকে ঠিক ট্র‍্যাকে রাখার জন্য। কিন্তু যতক্ষননা সাবেক স্বৈরাচারের চেয়ে খারাপ কিছু করবেনা ততক্ষণ সরকার পরিবর্তন চাইবোনা। ... আল্লাহ আমাদের জন্য ন্যায়পরায়ন শাসক পাঠিয়ে দিন। আমীন।

এতো এতো শহীদ থাকতে হাসিনা কেন আবু সাঈদকেই টার্গেট করলো?

 আগেও বলেছি, আবারও বলি, আবু সাঈদ আমাদের বিপ্লবের প্রতীক। বিদ্রোহের প্রতীক। সাহসের প্রতীক। আমি নিজে পার্সোনালি এই আন্দোলনকে পুরোপুরি ওউন করেছিলাম আবু সাঈদ হত্যার দৃশ্য দেখার পর।  গত ১৭ টা বছর আমরা ভীত ছিলাম। গুলির ভয়, মারের ভয়, ছাত্রলীগের ভয়, পুলিশের ভয়।  আপু সাঈদ মরে গিয়ে আমাদের সব ভয় একসাথে কাটিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।  একদিকে এই দৃশ্য হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসনের ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন ছিলো। নিরস্ত্র নিরপরাধ মানুষের উপর হাসিনা যে কী ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালাইছে, ঐটার প্রমাণ নিরস্ত্র আবু সাঈদের বুকে গুলি করার দৃশ্য। আরেকদিকে আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের জন্য একটা বিপ্লব। একটা বিদ্রোহ। এর আগের সমস্ত আন্দোলনে গুলির শব্দ শুনেই সবাই পালাইছে।  এইবার আবু সাঈদ বুক পেতে দিলেন। সরলেন না। একটা গুলি খেলেন। তাও সরলেন না। আবার দাঁড়ালেন। এই দাঁড়ানোটাই, এই সরে না যাওয়াটাই ছিলো আমাদের প্রজন্মের বিদ্রোহের ঘোষণা। ঐদিন আবু সাঈদ আক্ষরিক অর্থেই বলেছিলেন,  বুকের মধ্যে ভীষণ ঝড়,  বুক পেতেছি, গুলি কর।  আবু সাঈদের না পালানোতেই হাসিনার পালানো নিশ্চিত হয়ে গেল। আবু সাঈদ যদি স...

যে সংস্কারগুলো জামায়াত চায়

 ১. জামায়াত নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (PR) চায়। দেশে যে দলের সমর্থক যত শতাংশ সে দল তত শতাংশ প্রতিনিধি পাঠাবে। উল্লেখ্য যে, ১৯৮৪ সালে জামায়াতের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খান এই প্রস্তাবনা পেশ করেন। এর খসড়া তৈরি করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গোলাম আযম। গোলাম আযমের খসড়া ২০০৫ সালে বই আকারে প্রকাশ হয়। কমেন্টে দেওয়া আছে।       ২. জামায়াত সংসদীয় আসনভিত্তিক নির্বাচনের বিলোপ চায়। এর দ্বারা সংসদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব পাওয়া যায় না। ইনসাফ কায়েম হয় না।     ৩. নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল চায় জামায়াত  ৪. দুবারের বেশি কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দিতে চায় না জামায়াত  ৫. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীক ব্যবহার পদ্ধতি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত ৬. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তি তার চাকরি বা পদ হতে অব্যাহতি বা দায়িত্বমুক্ত হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না ...

গুলি করি মরে একটা একটাই যায় স্যার বাকিডি যায় না পর্ব : ০২

 উল্লাস চলছে, বিজয়ের উল্লাস!!  হঠাৎ গুলির শব্দ আসলো থানার দিক থেকে। দৌড়ে গেলো ইয়াসির ও তার বন্ধুরা। যাত্রাবাড়ী থানা থেকে সমানে গুলি করছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পোষা সন্ত্রাসী পুলিশ লীগ। প্রতিরোধের ব্যবস্থা করলো ইয়াসির ও বন্ধুরা। এক পর্যায়ে পিছু হটলো পুলিশ। তারা যাত্রাবাড়ী থানার অভ্যন্তরে ঢুকে গেল। ইতোমধ্যে ৫ জন স্পট ডেড। আহত পঞ্চাশের কাছাকাছি। আহত ও নিহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলো। হাজার হাজার প্রতিবাদী ঘিরে ফেললো যাত্রাবাড়ি থানা। বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে লাগলো তারা।  সেদিন ছিল ৫ আগস্ট। ডাইনী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেল ভারতে। দুপুর থেকেই শুরু হলো জনতার বাঁধভাঙ্গা উল্লাস। বিপ্লবীরা আল্লাহকে সিজদা দিয়ে শুকরিয়া আদায় করতো। মিষ্টি বিতরণ করতে লাগলো জনতা। এমন এক আনন্দঘন মুহূর্ত বিষাদে পরিণত করলো যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশেরা। হাসিনার পতনে জনতার এমন উল্লাস তাদের পছন্দ হয়নি। তাই তারা গুলি করে মানুষকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে চাইলো।     নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এম ডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো ইয়াসির সরকার। তাদের বাসা শনির আখড়ায়। যাত্রাবাড়ির আন্দোলনের একজন সফল ...

গুলি করি মরে একটা একটাই যায় স্যার বাকিডি যায় না পর্ব : ০১

 শুক্রবার দুপুর। জুমার নামাজ শেষে বিরিয়ানি খাচ্ছিল শোভন। বন্ধুরা তখন বার বার ফোন দিচ্ছিল। ফোন পেয়েই বিচলিত হয়ে পড়ে সে। কোনো রকম খাওয়া শেষ করে দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে সে। গুলি করছে ডাইনি হাসিনার পালিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও পুলিশ লীগ। এই অবস্থায় তো আর ঘরে থাকা যায় না। সেদিন ছিল ১৯ জুলাই। শোভন ও তার বন্ধুরা খুবই উত্তেজিত। লড়াই করতে হবে। গত ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ভাইসহ ৬ জন শহীদ হয়েছেন। গতকাল ১৮ জুলাই মুগ্ধ ভাইসহ প্রায় ৪০ জন ভাই শহীদ হয়েছেন। এই খুনের প্রতিশোধ নিতেই হবে।  রাগে ক্ষোভে মুখ লাল হয়ে ওঠে শোভন ও তার বন্ধুদের। হাসিনার দীর্ঘদিনের শোষণ থেকে উদ্ধার করতে হবে দেশকে। এই খুনের শাস্তি পেতেই হবে হসিনাকে। তাকে ফাঁসিতে ঝুলতেই হবে। কিন্তু হাসিনার রক্ত নেশা তো আর থামে না। ১৯ জুলাইও সমানে খুন করে যাচ্ছে সে।   শোভন ও তার বন্ধুরা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিউমার্কেট এলাকায়। নিউমার্কেট পেট্রোল পাম্পের সামনে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া চলছে। গুলির শব্দ হচ্ছে মুহুর্মুহু। ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে লড়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও পুলিশ লীগের সাথে। পুলিশ গুলিতে একের পর এক ছাত্র লুটিয়ে পড়ছে জমিনে। দুইজন তা...