প্রথম আলো ডেইলি স্টারের পক্ষে অবস্থান

 বিএনপি, জামাত, চরমোনাই, খেলাফতে মজলিস, গনঅধিকার, এবি পার্টি, নাগরিক কমিটি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে গতকাল (২৮শে নভেম্বর) প্রথম আলো ডেইলি স্টারের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

সংবাদপত্রের মালিকদের ডাকা এই অনুষ্ঠানে সমকালের মালিক ও ফ্যাসিস্ট ভোটচোর এমপি একে আজাদ গোয়েবলস এডিটর ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াকে বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিপ্লব শেষ হয়ে গেল। আমরা স্বীকৃতি দিয়ে দিলাম যে ফ্যাসিস্ট প্রোপাগান্ডা গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতিটা রাজনৈতিক শক্তিই এই স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি নাগরিক কমিটিও।

আলো-স্টারসহ ফ্যাসিস্ট এস্টাবলিশমেন্ট আমাদের ব্ল্যাকমেইল করছে। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা কিংবা ক্যুয়ের ভয় দেখিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে। আর বিএনপি-জামাত থেকে শুরু করে সবাই এই ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি শিকার করছে না। কেউ জনগনকে সাথে নিয়ে এই থ্রেট মোকাবেলা করার সাহসিকতাটা দেখাচ্ছে না।

এটার শুরু হয়েছে আলো-স্টারের সামনে হঠকারি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ময়দান প্রস্তুত না করে কোন আন্দোলন করা যায় না। কিন্তু ময়দান প্রস্তুত না করেই একদল লোক আলো-স্টারের সামনে আন্দোলনে বসে গেছে।

যাহোক, এরপরও রাস্তার উলটা দিকে তারা বসতে পারত। সার্বক্ষণিক লাইভের মাধ্যমে তাদের অহিংস কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দিতে পারত। আন্দোলনকে ইনক্লুসিভ করতে পারত। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু চিহ্নিত ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী এই আন্দোলনে ছিল। এটা জেনেও আয়োজকরা বিন্দুমাত্র রিথিঙ্ক করে নাই।

ফলাফল হচ্ছে, কালকে আমরা সবাই আলো-স্টারের বিরুদ্ধে সরব থাকলেও আজকে অনেক মহল বাধ্য হচ্ছে আলো-স্টারের পক্ষে অবস্থান নিতে।

আমি জানি না যারা এই হঠকারি আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছেন, আন্দোলন বাস্তবায়ন করেছেন, এবং নিদারুন অদক্ষতা-অযোগ্যতা ও হরিবল পাবলিক রিলেশন্স ক্যাম্পেইনের সহিত আন্দোলনকে দাফন করেছেন তাদের ক্ষতিকর কোন এজেন্ডা আছে কিনা। সে সম্পর্কে স্পেকুলেশন করা উচিত হবে না। তবে কাজটা ওনারা ঠিক করেন নাই।

মির্জা ফখরুল বিশেষভাবে জঘন্য বাজে পজিশন নিয়েছেন। পত্রিকার অফিসে দেশের মানুষ আগুন দেওয়ার মত মিথ্যাচার করে তিনি নিজেকে হাসান মাহমুদ কিংবা আরাফাতের স্তরে নিয়ে গেছেন। যে দেশের মানুষ এত বড় হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের সামনেও অসম্ভব ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে সেই দেশের মানুষকে তিনি দোষারোপ করছেন!

আমাদের কপালটাই আসলে এমন। ৮ তারিখে ইউনুসের ঐ বক্তব্য বাদে কোনদিন আমাদের দেশের কোন নেতা আমাদেরকে ঔন করেন নাই, আমাদের পক্ষে ব্যাট করেন নাই। শুধু আমাদের গালি দিয়েছেন আর শাসন করেছেন।

ফখরুলের এই মিথ্যাচার ও দেশের মানুষকে গালিগালাজ করার ঘটনাটা কোন সভ্য দেশে ঘটলে কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। হিলারি ট্রাম্পের অর্ধেক সমর্থককে irredeemable বলার কারণে বিশাল স্ক্যান্ডাল হয়েছে এবং শেষমেষ তাকে নির্বাচনে হারতে হয়েছে।

এ কেমন গণতন্ত্র যেখানে নেতারা ভোটারদের সম্মান করে না?

সরকারের কথাই বা আর কি বলব। সরকার আলো-স্টারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে সেটা অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু আলো-স্টারের প্রোপাগান্ডার কারণে জনরোষ যে যৌক্তিক এইটুকু কি সরকার বলতে পারত না? নাহিদ-আসিফ ও মাহফুজদের কাছ থেকে এইটুকু কি আমরা আশা করতে পারতাম না?

সবাই আমাদেরকে হতাশ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।




Comments