হিজাব পরা এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ার কারণে

 হিজাব পরা এবং মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ার কারণে আমার বড় বোন Tamanna Rashid (যিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষণায় রত) এর উপর কী ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়েছে জিনাত হুদা, মাহমুদা আর সাদেকারা, তার বিবরণ পড়ুন-

আমি তামান্না রশীদ, ২০১০-২০১১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল, মাস্টার্সের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার সম্পর্কের ইতি ঘটে। বর্তমানে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি গবেষক হিসেবে অধ্যয়ন করছি। মাঝখানে প্রায় ৫ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেছি।
সম্ভবত নিজের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে লেখা এটিই আমার প্রথম এবং শেষ স্ট্যাটাস। কোনদিনও এই বিভাগ নিয়ে জনপরিসরে লিখবো তা চিন্তা ও করিনি। কিন্তু বছরের পরে বছর ধরে নিজের সাথে এত অন্যায় এবং অপপ্রচার চলেছে যে সেসব নিয়ে কথা না বললে সেসব অন্যায়ই ধীরে ধীরে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এসব কারণেই একজন সাবঅল্টার্ন ভয়েজ হিসেবে কিছু কথা জানাতে চাই।
আমার লেখাপড়ার শুরুটা মাগুরাতে। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সেখানকার স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করি। এরপরে মাধ্যমিক পাস করি সেখানকার একটি মাদ্রাসা থেকে৷ এরপরে উচ্চ-মাধ্যমিক শেষ করি সরকারী মহিলা কলেজ থেকে। এরপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নিজের পছন্দে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। স্নাতক শেষ করার শেষ সময় থেকে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে আমি বুঝতে শুরু করি এই বিভাগ থেকে আমি সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখাপড়া শেষ করতে পারবো না।
একটি স্বচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবার থেকে আমি এসেছি। তাই লেখাপড়াটা সবসময়ই আমার কাছে ছিল দায়িত্ব এবং উপভোগের বিষয়। স্বভাবগতভাবেই কিছুটা ইন্ট্রোভার্ট ছিলাম। বিশেষ কোন দরকার না হলে শ্রেণীকক্ষের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে আমার উঠাবসা হত না। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষকই অধ্যয়নকালীন আমাকে চিনতো না। আমার ধারণা এখনো হয়তো অনেক শিক্ষকই আমার নাম জানেন না। ২০১৪ সালের স্নাতকের পরীক্ষায় ( অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে) প্রথম হলে তখনকার ততকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর মনিরুল ইসলাম খান আমাকে প্রথম চিনতে পারেন। তা ও নুজহাত জাহাঙ্গীর মেমোরিয়াল স্কলারশিপ এর এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। আমি প্রথম হয়েছি এইটা জানার পরে আমার মনে হল স্যার কিছুটা বিস্মিত হলেন। কেন বিস্মিত হলেন তা আমার কাছে আজো স্পষ্ট নয়। এই ঘটনা বাদ দিলে প্রফেসর মনিরুল ইসলাম স্যারকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি কেননা তিনি আমার সাথে কোন অন্যায় আচরণ কখনোই করেননি এবং তিনি সবসময় চেষ্টা করতেন আমাদেরকে শেখাতে।
এরপরে মাস্টার্সে ক্লাস শুরু হয়ে যায়। একদিন আমাদের একজন সম্মানিত শিক্ষক ( আমি আপাতত নাম বলতে চাচ্ছি না) আমাকে উনার সাথে অফিস রুমে দেখা করতে বলেন। সেখানে আমার থিসিসের বিষয় নিয়ে স্যার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। কিন্তু কথা বলার এক পর্যায়ে স্যার আমাকে যা বলেছিলেন তা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। স্যার বলতে লাগলেন, " তামান্না, তুমি যে ভালো শিক্ষার্থী তোমার স্নাতকের ফলাফলই সেটি স্বাক্ষ্য দিচ্ছে। লেখাপড়া যেভাবে করে এসেছে সেটি অব্যাহত রাখলে তুমি মাস্টার্সে ও প্রথম হবে বলেই আমার বিশ্বাস। তোমার লেখাপড়া নিয়ে আমাদের কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু তুমি শুনেছ কিনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তোমার হিজাব ও মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। তারা চায়না এরকম কেউ সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোক?"
এরপরে স্যার বলতে লাগলেন, " তুমি যদি কিছু মনে না কর তাহলে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে একটা পরামর্শ দিতে চাই। যদি সম্ভব হয় আপাতত কিছুদিন হিজাব না পড়লে। এরপরে মাস্টার্সে ভালো ফলাফল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার পরে যদি তুমি হিজাব কন্টিনিউ কর তখন তো খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা না! আমার আশংকা হচ্ছে এখন যদি হিজাবের সাথে কম্প্রোমাইজ করতে না পার তবে তোমার মাস্টার্সের ফলাফল খারাপ হতে পারে"।
স্যারের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পরে আমি মানসিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়লাম। আমি ভাবতে লাগলাম এক টুকরো হিজাবের সাথে ফলাফলের সম্পর্ক কোথায়? এরপরে স্যারকে আমি আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেই। ফলাফল খারাপ হওয়ার পরিবেশ তৈরী হলে ও আমি হিজাবের সাথে কম্প্রোমাইজ করতে পারবো না। এটি ছিল আমার ফ্যামিলি ভ্যালুস এবং চয়েস। স্যার ছিলেন আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি আমার মনোজগতের অবস্থা বুঝতে পারলেন। সব শুনে আমাকে পরামর্শ দিলেন ভালো যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থিসিসের কাজটি করি। যেন কেউ আটকাতে না পারে।
এই ঘটনার কয়েক মাস পরেই মাস্টার্সের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল পেলাম। ফলাফলে যে গড়মিল হতে যাচ্ছে তার আভাস সেমিস্টার চলাকালীন সময় আমার কতিপয় শিক্ষকের আমাকে নিয়ে বিরুপ মন্ত্যবেই বুঝতে পেরেছিলাম। মাস্টার্স ১ম সেমিস্টারে পেয়েছিলাম প্রফেসর মাহমুদা খাতুন কে। তিনি যে আমাকে ক্লাসের টপ স্টুডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে পারেননি তা বিভিন্ন নেগেটিভ মন্ত্যব্যের মাধ্যমে বুঝাতে থাকেন। ১ম মিডটার্ম পরীক্ষায় আমাকে অপ্রকাশিতভাবে কম নম্বর দেওয়ার কারণ হিসেবে "unless" দিয়ে বাক্য শুরু করা এবং "achieve" বানানের "e" টা ঠিকমতো দেখা না যাওয়ার মত বিষয় গুলোকে তিনি হাইলাইট করেন। তার রুমে তিনি আমাকে ডেকে ডেকে নিয়ে যান। আমাকে আমার খাতা দেখিয়ে বললেন যারা ফার্স্ট তাদের খাতা তিনি এইভাবে ইভ্যালুয়েট করেন।
এরপরে একদিন পরীক্ষার হলেই প্রফেসর মাহামুদা খাতুন দেখি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কোন কারণ ছাড়াই তিনি হঠাৎ রেগে গিয়ে আমার সামনের পরীক্ষার ডেস্কে প্রচন্ড জোড়ে চাপড় দিয়ে বললেন, " মাথার উপরে মাথা (হিজাব) থাকলেই ভাল রেজাল্ট করা যায়না"। এইকথা বলেই তিনি বিড়বিড় করে অন্যপাশে চলে গেলেন। এমনকি যখন তিনি ক্লাস নিতেন তখনো আকারে ইংগিতে আমাকে উদ্দেশ্য করে এমন সব কথা বলতেন যার ইন্টারপ্রেট করলে দাঁড়ায় প্রথম হওয়াটা আমি ডিজার্ভ করিনা। তার ঐ সময়কার আচরণগুলো আমাকে মানসিকভাবে কতোটা বিপর্যস্ত করেছিলো তা এই ছোট্ট একটা লেখায় তুলে ধরা সম্ভব না। তার কোর্সে আমি B+ পেয়ে ১ম সেমিস্টারে অন্য আরো ৫ জনের সাথে কম্বাইন্ডলি সেকেন্ড হই। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ও এই একই কাজটা করলেন প্রফেসর জিনাত হুদা। উনার এক কোর্সে দিলেন B+। ফলে মাস্টার্সে আমার অবস্থান হল চতুর্থ ( স্নাতকে ছিলাম ১ম)। একটা দুইটা কোর্সের রেজাল্ট নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই। কিন্তু প্রফেসর জিনাত হুদাতো আমার আইডেন্টিটি নিয়ে গেইম খেলেছেন আরও অনেক পরে।
মাস্টার্সের কম্প্রিহেনসিভের ভাইভা বোর্ডে এরকম ঘটনা আমার সাথে আবারও ঘটলো। ভাইভা বোর্ডে ছিলেন প্রফেসর সাদেকা হালিম এবং প্রফেসর মনিরুল ইসলাম। উল্লেখ্য যে আমি দ্বিতীয় সেমিস্টারে সাদেকা হালিমের কোর্সই ভয়ে নেয়নি (তার পারসিভড হিজাব বিদ্বেষের কারণে)। উনি যে ক্লাসে হিজাব নিয়ে কটু মন্তব্য করেন তা কে না জানতো। কিন্তু ভাইভা বোর্ডে যখন আমাদের দেখা হল তখন তিনি ঠিকই সুযোগ পেয়ে আমাকে আক্রমণ করে বসলেন। " তুমি হিজাব পর, আর আমি পরি না। এইবার বল কে ভালো মুসলিম? তুমি না আমি?" আরো বললেন, "শিক্ষকতো হতে পারবানা। বিসি এস পড়ো।"
আমি যে এই বিভাগে আনওয়েলকামড সেটি উনারা খুব পরিস্কারভাবে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন। ফলে খুবই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাস্টার্স শেষ করতে হল। সেইদিনের পর থেকে আজ অবধি আমি এই বিভাগের বারান্দায় আর পা রাখি নি। এরপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চিন্তা বাদ দিয়ে বাংলাদেশের যেকোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবো বলে চেষ্টা চালাতে লাগলাম। কিন্তু আমি জানতাম না এর পরের ঘটনাপ্রবাহ আরো কত ভয়াবহ হতে পারে। দেশ ছাড়ার আগে প্রফেসর জিনাত হুদা রীতিমতো আমার জীবন বিষিয়ে তুলেছিলেন।
ঘটনার শুরু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নিয়োগ বোর্ড থেকে। বশেমুরবিপ্রবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে এডজ্যান্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে আমি যোগদান করি। নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা থাকার কারণে বিভিন্ন বিভাগে ততকালীন উপাচার্য এমনকি বর্তমান উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মেনে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতেন। এমনই এক নিয়োগ বোর্ডে ততকালীন উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের সাথে ড. জিনাত হুদার সিলেকশন বোর্ডে বাদানুবাদ ঘটে। পরবর্তীতে ওই বোর্ডে উপস্থিত আমার সহকর্মী ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং উপাচার্য মারফতে ঘটনার বিবরণ আমি জানতে পারি।
ড. জিনাত হুদা উক্ত বোর্ডে জগন্নাথ কলেজের সর্বশেষ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীকে (উনার এলাকার ও বাড়ির পাশের মানুষ) নিয়োগ দিতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু মাননীয় উপাচার্য উনাকে বারংবার অনুরোধ করছিলেন যে উনি যেন ঢাবি থেকে দুইজনের নাম সুপারিশ করেন। কিন্তু ড. হুদা ঢাবি থেকে একজনকে নিলে ও উনার নিজের লোককে নেওয়ার জন্য উপাচার্যকে চাপ দেন। কিন্তু উপাচার্য জগন্নাথ কলেজের কাউকে নিতে চাচ্ছিলেন না। যখন তিনি দেখলেন উপাচার্য মহোদয় কোনভাবেই তার ক্যান্ডিডেটকে নিতে চান না, তখন তিনি রেগেমেগে উপাচার্যকে বলে আসলেন আপনি যদি এই ছাত্রকে ছাড়া তামান্নাকে নেন ( যেহেতু আমার ব্যাকগ্রাউন্ড মাদ্রাসা, সেহেতু উনার ভাষ্যমতে আমি নিয়োগের অযোগ্য এবং জামাত-শিবির!!) তবে আমি ইউজিসিতে গিয়ে বলে আসবো আপনি নিয়োগের নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত-শিবির ঢুকাচ্ছেন! উক্ত বোর্ডে উপাচার্য এবং উনার এরকম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হওয়ার পরে কাউকে নিয়োগ না দিয়েই সেই বোর্ড শেষ হয়।
এই ঘটনার সম্ভবত ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে পুনরায় নতুন করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ২ টি পোস্টের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসে। রেজিস্ট্রার অফিস থেকে পুনরায় নিয়োগ বোর্ড বসানো হয়। কিন্তু এইবার ড. হুদা নিয়োগ বোর্ডে আসলেন না। তবে আমার নিয়োগ আটকানোর জন্য তিনি তার তৎপরতা ঠিকই অব্যাহত রাখলেন। প্রথমে, তিনি ইউজিসিতে গিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে চিঠি দিয়ে আসলেন এই মর্মে যে উপাচার্য আমি সহ একাধিক জামাত-শিবিরের লোক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিচ্ছেন। এমনকি বোর্ডের আগের দিন ডেইলি সান পত্রিকায় তিনি নিউজ করালেন এই নিয়োগ বন্ধের জন্য। সেখানে তিনি আমাকে জামাত-শিবির ট্যাগ দিয়ে পরিচয় করালেন যেন আমার নিয়োগ আটকে যায়৷ ফলে পুনরায় আমার নিয়োগ আটকে গেল।
আমি আজ ও জানি না ঠিক কি কারণে ড. জিনাত হুদা (যিনি আমাকে শ্রেণীকক্ষে ৩ তিনটি কোর্স পড়িয়েছিলেন) আমাকে জামাত-শিবির ট্যাগ দিয়ে আমার জীবনটাকে তখন এইভাবে বিষিয়ে তুলেছিলেন? মাদ্রাসা আর হিজাব ছাড়া কি প্রমাণ ছিল যার ভিত্তিতে উনি এমন সম্পূর্ণ মিথ্যে, এবং বানোয়াট অভিযোগ এনেছিলেন? উনি আমার পরিবার সম্পর্কে কিংবা আমার সম্পর্কে আদো কি কিছু জানেন? নিজের শিক্ষার্থীর সাথে এমন অন্যায় আচরণ করতে উনার কি একবার ও অপরাধবোধ জাগেনি? উনি এতটাই প্রতিশোধপরায়ণ মানুষ যে উনি অনেকের কাছেই ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, " আমি বেঁচে থাকতে তামান্নার বাংলাদেশে কিভাবে জব হয় তিনি দেখে নিবেন"।
সত্যিই উনি এবং উনারা সফল হয়েছেন। উনাদের এই বর্ণবাদী আর ইসলামোভোবিক আচরণের কারণে বাংলাদেশে থাকতে আমার কোন স্থায়ী চাকুরী হয়নি। তাতে আমার আফসোস থাকলে ও আর কষ্ট নেই। বছরের পরে বছর ধরে আমি সহ অনেকের সাথেই যে জুলুম করেছেন তার জন্য আজ উনারা নিজেরাই লাঞ্চিত হচ্ছেন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তার শিক্ষকদের লাঞ্চিত হতে দেখাটা ও যন্ত্রণার। কিন্তু শিক্ষক যদি শিক্ষক হয়ে না উঠে মাফিয়া শিক্ষক হয়ে উঠেন তখন সেই আফসোসটা হয়ে যায় ন্যায়বিচার।
আমি কখনো নিজের বিষয়ে বলতে পছন্দ করিনা। আমার স্কুল কলেজের শিক্ষকরা এখনও আমাকে এক্সাম্পল হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণাদায়ক কোনো মন্তব্য তো পাইনিই বরং নিজেকে নিয়ে নিজেই সংশয়ে থেকেছি এবং নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। কিন্তু এটা তো শুধু আমার সাথে না আরও অনেক শিক্ষার্থীদের সাথে ঘটে আসছে। এটা একটা প্রসেস। যার মাধ্যমে অনেক ভালো ফলাফল করার পর ও অনেক শিক্ষার্থীদেরকে বঞ্চিত করা হয়ে আসছে।তাই অনেকটা দায়িত্ববোধ থেকে আজকের এই লেখাটা। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য ভাইভা দিয়েছি আমি। সেই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করলে অনেকের কাছেই পরিষ্কার হবে বাংলাদেশে হিজাব এর কারণে কতো মেয়ে রেসিজম এর শিকার হয়। এরকম অন্যায় আচরণ আর কারো সাথেই যেন না হয় সেই প্রত্যাশায় আমার ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা।
একইসাথে বিভাগের অনেক মানবিক শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।
তামান্না
ম্যাসাচুসেটস
নভেম্বর ৩,২০২৪
All reactions:
Abdullah Al Zaied, ফখরুল ইসলাম and 1K others

Comments