এতো এতো শহীদ থাকতে হাসিনা কেন আবু সাঈদকেই টার্গেট করলো?
আগেও বলেছি, আবারও বলি, আবু সাঈদ আমাদের বিপ্লবের প্রতীক। বিদ্রোহের প্রতীক। সাহসের প্রতীক।
আমি নিজে পার্সোনালি এই আন্দোলনকে পুরোপুরি ওউন করেছিলাম আবু সাঈদ হত্যার দৃশ্য দেখার পর।
গত ১৭ টা বছর আমরা ভীত ছিলাম। গুলির ভয়, মারের ভয়, ছাত্রলীগের ভয়, পুলিশের ভয়।
আপু সাঈদ মরে গিয়ে আমাদের সব ভয় একসাথে কাটিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।
একদিকে এই দৃশ্য হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসনের ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন ছিলো। নিরস্ত্র নিরপরাধ মানুষের উপর হাসিনা যে কী ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালাইছে, ঐটার প্রমাণ নিরস্ত্র আবু সাঈদের বুকে গুলি করার দৃশ্য।
আরেকদিকে আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের জন্য একটা বিপ্লব। একটা বিদ্রোহ।
এর আগের সমস্ত আন্দোলনে গুলির শব্দ শুনেই সবাই পালাইছে।
এইবার আবু সাঈদ বুক পেতে দিলেন। সরলেন না। একটা গুলি খেলেন। তাও সরলেন না। আবার দাঁড়ালেন।
এই দাঁড়ানোটাই, এই সরে না যাওয়াটাই ছিলো আমাদের প্রজন্মের বিদ্রোহের ঘোষণা। ঐদিন আবু সাঈদ আক্ষরিক অর্থেই বলেছিলেন,
বুকের মধ্যে ভীষণ ঝড়,
বুক পেতেছি, গুলি কর।
আবু সাঈদের না পালানোতেই হাসিনার পালানো নিশ্চিত হয়ে গেল। আবু সাঈদ যদি সেদিন গুলি বুকে না নিতেন, হাসিনাকে পালাতে হতো না, হাসিনা নিজেও সেটা জানেন।
আমাদের প্রজন্ম শুধু বাঁচতেই শিখেছিলো। আবু সাঈদ আমাদের মরতে শিখিয়ে গেলেন।
সেই পথ ধরেই একে একে মরে গেল এই দেশের ২০০০ ছাত্র জনতা।
মরে গেল ওয়াসিম, মুগ্ধ, ফারহানরা।
আবু সাঈদের উপর তাই হাসিনার রাগ সবচে বেশি। আওয়ামীলীগের রাগ বেশি। হাসিনা কাল কলে চেষ্টা করেছে আবু সাঈদকে বিতর্কিত করার। নিশ্চিত থাকেন, সামনে আবারও চেষ্টা করা হবে।
আবু সাঈদকে তাই আমাদের আগলে রাখতে হবে। আমাদের রক্ষা করতে হবে গল্পে, উপন্যাসে, ইতিহাসে, সিনেমায় আর অন্তরে। আমাদের ভাই আবু সাঈদকে আওয়ামী প্রোপাগান্ডা থেকে রক্ষা করতে পারলেই আমরা আমাদের বিপ্লব রক্ষা করতে পারবো।
গুলি আবু সাঈদের ভেতরেই ছিলো। বের হয়নি। আবু সাঈদের মৃত্যুও হয়েছিলো ইন্টারনাল ব্লিডিং এই। ড্রাকুলা হাসিনা এখন প্রশ্ন করতেছে, আবু সাঈদের রক্ত কই?
আমি বলি, গুলি তো আমাদের ভেতরেও আছে। আবু সাঈদের রক্ত আছে আমাদের শরীরে। কত রক্ত লাগবে, একবার তুই বাংলাদেশে ঢোক। আমরা দেখাবো। আমাদের ভাইকে যেদিন গুলি করার দৃশ্য আমরা দেখেছি, রক্ত শুধু আবু সাঈদের বুকে ঝরেনি, আমাদের বুকেও ঝরেছে।
আবু সাঈদের খুনি হাসিনার বিচার না দেখা পর্যন্ত আমাদের অন্তরের এই রক্তক্ষরণ থামবে না।
আবু সাঈদের রক্ত এখন বাংলাদেশের রক্ত।
হাসিনার শখ থাকলে সে যেন বাংলাদেশে এসে আবু সাঈদের রক্ত দেখে যায়। আমরা প্রস্তত হয়েই আছি। যেমন প্রস্তত ছিলো আমাদের ভাই শহীদ আবু সাঈদ।
এক আবু সাঈদকে মেরে হাসিনা দেশ ভর্তি হাজার হাজার আবু সাঈদ বানিয়ে রেখে গেছে।
সেই আসুক বা ভবিষ্যতে কেউ হাসিনা হয়ে উঠতে চাক, আমাদের রক্ত অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের সমস্ত ফ্যাসিস্ট এর জন্য জিন্দা আছে। জিন্দাই থাকবে।
Sadiqur Rahman Khan
Comments
Post a Comment