সন্ত্রাসবাদ ছড়ায় কারা?
এএফপি'র ফ্যাক্টচেকার শিশির ভাই দেখিয়েছেন, তসলিমা নাসরিন এখানে আনন্দবাজারের যে উক্তিটা শেয়ার করেছে, সেটা আনন্দবাজার তসলিমা নাসরিনেরই আগের একটা স্ট্যাটাসের বরাত দিয়ে লিখেছিল।
অর্থাৎ, যেটা ঘটেছে:
(১) প্রথমে তসলিমা নাসরিন কোনো রেফারেন্স ছাড়া মনগড়া একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছে, মাহফুজ আলম হিযবুত তাহরিরের নেতা।
(২) আনন্দবাজার অন্য কোথাও মাহফুজকে ডিফেইম করার কিছু খুঁজে না পেয়ে তসলিমার সেই স্ট্যাটাসকেই উদ্ধৃত করে নিউজ করেছে।
(৩) এবার তসলিমা আবার আনন্দবাজারকে "রেফারেন্স" হিসোবে ব্যবহার করে সেই মনগড়া বানানো তথ্যটা শেয়ার করছে।
সারক্যুলার রেফারেন্সের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
আর (৪) এই পুরো ব্যাপারটাতে যোগসূত্র সাধনের মহান কাজটা করেছে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের জনপ্রিয় পেজ, Friday Post।
আনন্দবাজারের এই দাবির অর্থ কী? প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ উপদেষ্টা এমন একটা দলের নেতা, যেই দলটা বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ, যেই দলের সমর্থকরা গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ ধরনের পতাকা নিয়ে শোডাউন করছে।
এরকম নিউজের পর নিউজ, প্রপাগান্ডার পর প্রপাগান্ডা যদি আসতে থাকে, সেই সাথে জয়ের নিয়োগকৃত লবিইস্টদের প্রচেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে, সরকারের উপর চাপ আসতে, অর্থনৈতিক আঘাত আসতে ছয় মাসের বেশি সময় লাগবে না।
আম্মোর আমলে ১৫ বছর কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকার পর এখন পশ্চিমকে কেয়ার করি না বলে কম্বল সরিয়ে বাঁশ খাওয়ার জন্য পশ্চাৎদ্বেশ উদোম করে দিয়েন না। এত সাহসী হলে গত ১৫ বছর গর্তে থাকতেন না। আব্দুল্লাহ আবু সাইদের মতো দুর্দিনে গর্তে লুকিয়ে থেকে এখন সুদিনে বিপ্লব মারাইতে আসতেন না।
সাবধান হন। যেকোনো নিউজ শেয়ার দেওয়ার আগে, যেকোনো নিউজ প্রচার করার আগে, যেকোনো কারও উস্কানিতে নাচার আগে ভালোমতো খোঁজ-খবর নেন। সময়টা ষড়যন্ত্রের। সময়টা বিভাজনের।
Comments
Post a Comment