আর কেউ না জানলেও জিন্নাহ জানতেন।
জিন্নাহ জানতেন, আমার আপনার জন্য কেউ থাকবে না। আমার আপনার মৃত্যুতে কেউ আগাবে না। শিক্ষিত হিন্দুরা সকালে বলবে উই আর ইসকন। ইসকন যখন মারতে আসবে, ওরা বলবে আমরা ইসকন না।
এইটুকুই।
এরবেশি এখন পর্যন্ত একজন হিন্দুকেও বলতে দেখিনি।
মিডিয়া আপনার কথা বলবে না। প্রথম আলো মুসলিমদের সংগঠনের নাম লিখবে, হিন্দুদেরটা লেখবে না।
সুশীল সমাজ আপনার কথা বলবে না।
কল্লোলের মতো সুশীল *** এর বাচ্চারা এসে বলবে, চিন্ময়কে গ্রেফতার করলো কেন? না করলেই তো আর হতো না। সব দোষ সরকারের। ইসকনের কোন দোষ নাই।
ছায়ানট আর শাহবাগ বলবে, মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক তাই মারে। মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক তাই মরে।
এ এক অদ্ভুত অভাগার জাত। মরলেও গালি শুনতে হবে, শুনতে হবে, মেরেছে তো কী হয়েছে? সহনশীল হও।
সব সহনশীলতা আর অসাম্প্রদায়িকতার ভার নিয়ে মুসলমানরা এদেশে থাকবে।
আয়নাঘরে কে? মুসলমান। জঙ্গি নাটকে মরে কে? মুসলমান। সরকার গত ১৫ বছর রোলার চালাইছে কার উপর? মুসলমানদের উপর। তাহলে জালিম কে? মুসলমানরাই। মজলুম? জগতের সমস্ত গেরুয়া ইসকন ঐক্য পরিষদ।
এ এক অদ্ভুত ডিলেইমা, অদ্ভুত অঙ্ক, যে অঙ্কের ইনপুট যাই হোক, রেজাল্ট একটাই, মুসলমান খারাপ। মুসলমান সাম্প্রদায়িক।
মুসলমান মন্দির পাহারা দেবে। জবাবে মসজিদ ভাঙা হবে। তবুও টু শব্দ করা যাবে না। কেন? শব্দ করলেই মুসলমানের অসাম্প্রদায়িকতা ভেঙে যাবে, মুসলমান অপবিত্র হয়ে যাবে।
মসজিদে ঢিল পড়লে জয়া আহসানরা কিছু বলবে না।
কিন্তু মন্দির কমিটির লোকজন এসে মন্দির ভেঙে গেলে জয়া আহসানরা বলে যাবে, এই বাংলাদেশ আমার না।
পৃথিবীর কোথাও এমন অদ্ভুত ইকুয়েশন আছে কি না,আমার জানা নাই। যেখানে মরে গিয়েও একটা দলকে অসাম্প্রদায়িকতার পরীক্ষা দিয়ে যেতে হয়, গেরুয়া সন্ত্রাস করেও অপর পক্ষ আবার সবার কাছে ভিক্টিম অসাম্প্রদায়িকই থাকে।
এই ইকুয়েশন আর কেউ না বুঝলেও জিন্নাহ বুঝেছিলেন। শেরে বাংলা বুঝেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী বুঝেছিলেন।
বুঝেছিলেন, এই অভাগাদের পাশে কেউ থাকবে না। মিডিয়া না, বিশ্ব না, কালচার না, মানবাধিকারও না। তাই শেষ সম্বল হিসেবে তারা আমাদের জন্য একটা ভূখন্ড দিয়ে গেছেন। আর সংখ্যার দিক থেকে এতো বড় করে গেছেন, যাতে অন্তত শক্তি দিয়ে আমাদের পিষে ফেলা না যায়।
জাস্ট ইমাজিন, এই দেশের জনসংখ্যার রেশিও ৫০-৫০ হলে কী হতো? এই কষ্ট কল্পনা আর কেউ না করলেও জিন্নাহ করতে পেরেছিলেন। পেরেছিলেন বলেই, আজও জিন্নাহর নামে কিছু লিখলে একটা কমিউনিটির সব পক্ষের গায়ে একসাথে এসিড পড়ে। পড়বে না কেন? এতো এতো অত্যাচার করতো ৪৭ এর আগে, সেই অত্যাচারের সুযোগ এই মানুষটার কারণে শেষ হয়ে গিয়েছিলো যে?
আর জিন্নাহর নাম মাথায় আসলেই আমাদের অন্তর নুয়ে উঠে শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়। আমাদের দুঃখ, আমাদের দুর্দশা, গেরুয়া সন্ত্রাসের ভয়াবহ রূপ যে মানুষটা আজ থেকে ৮০ বছর আগে ফিল করতে পেরেছিলেন, সেই মানুষটাকে স্মরণে, দোয়ায়, বিপ্লবে বা ভালোবাসায় সালাম জানাতে আমরা যেন ভুলে না যাই!!
Sadiqur Rahman Khan
Comments
Post a Comment