বাংলাদেশে ইসলাম - তাবলীগ জামায়াত - কওমি
১৯৭১ সালে দেশ ভাঙ্গার পর ভারতীয় মূর্তিপূজকদের সহায়তায় এদেশের শাসক হয় শেখ মুজিব। এসেই সে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করে।
শুধু যে ইসলামপন্থীরা আক্রান্ত হয়েছে তা নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা ইসলাম বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তারা ইসলামের প্রতি আক্রোশ দেখিয়েছে। যে সকল প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার নামে ইসলাম ও মুসলিম ছিল সেগুলো থেকে তারা ইসলাম ও মুসলিম শব্দ বাদ দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো থেকে 'রাব্বি জিদনি ইলমা' ও কুরআনের চিহ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে। নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ইসলাম বাদ দিয়েছে। পাবনার সেরা কলেজ ইসলামিয়া কলেজকে বুলবুল কলেজে পরিণত করা হয়েছে। এভাবে সারা বাংলাদেশে সব স্থান ইসলাম ও মুসলিমকে উৎখাত করা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের বোরকা নিষিদ্ধ করে শাড়ি পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এই কারনে বহু ছাত্রী একাত্তর পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে শিক্ষা নিতে যায় নি।
সংবিধান প্রণয়ন করে বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, নেজামী ইসলামী ও জামায়াতে ইসলামী এই দুইদলই ছিল সেসময় ইসলামী রাজনীতির ধারক ও বাহক। এদের নিষিদ্ধ করা হয় নাই যে, তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলেন। বরং তাদের এইজন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, তারা ইসলামী রাজনীতি করেন। সেসময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ন্যাপ (মুজাফফর), মনি সিং এর কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় দল, কৃষক শ্রমিক পার্টি, পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি এবং কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল এই দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।
সুতরাং এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের যারা কুশীলব তাদের মূল আক্রোশ ছিল ইসলামের সাথে। এই সাধারণ ব্যাপার সেসময়ের সকল ইসলামী রাজনীতিবিদ বুঝেছিলেন এবং তারা এজন্যই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলেন। সেসময়ের অনেক মুসলিম না বুঝে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলো এটা তাদের ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতা ছিল। আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করুন।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন এনেছে মুক্তিযোদ্ধারা। তারা রেডিও টেলিভিশনে বিসমিল্লাহ, সালাম দিয়ে শুরু করা বাদ দিয়ে সুপ্রভাত, শুভকামনা ইত্যাদি প্রতিস্থাপন করেছে। রেডিওতে কুরআন তিলওয়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী একাডেমি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ইসলামী একাডেমীকেই তিনবছর পরে ইসলামী ফাউন্ডেশন নামে চালু করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আবার পুনরায় রেডিও টেলিভিশনে সালাম, বিসমিল্লাহ, আযান ও কুরআন তেলওয়াত শুরু হয়েছিল।
এইসব কাজ শেখ মুজিব তার নিজস্ব পরিকল্পনাতে করেছেন এটা আমি বলতে চাই না। মুজিব পরিবেষ্টিত ছিলেন তাজউদ্দিনদের মতো এক ঝাঁক কমিউনিস্ট দ্বারা। তার ফলে মুজিবের শাসনামলের শুরুর দিকে সমস্ত ইসলামবিরোধী কাজের জোয়ার শুরু হয়েছিল। সংবিধান থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাদ পড়েছে। মূলনীতি থেকে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস বাদ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে কমিউনিজম, সেক্যুলারিজমের মতো ইসলাম ও ধর্মবিদ্বেষী মতবাদকে। ক্ষমতায় থেকে ইসলামপন্থা দমনে সব কাজ করেছেন শেখ মুজিব।
অল্প কিছুদিনের মুজিবের এসব কার্যক্রমে সারাবিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছায় যে, বাঙ্গালিরা এখন আর মুসলিম নেই। তারা ভারতের সাথে মিলে মুশরিক হয়ে গেছে। সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সল অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেন, বাংলাদেশীদের জন্য হজ্ব নিষিদ্ধ। ১৯৭২ সালে ওআইসি'র সম্মেলনে যোগ দিয়েও এই সমস্যার সমাধান করতে পারে নি শেখ মুজিব।
অন্যদিকে শেখ মুজিব কমিউনিস্ট ছিল না বিধায় সে রাষ্ট্রকে কমিউনিস্ট রাষ্ট বানাতে চায় নি। তার দলের মধ্যে থাকা বামেরা তাই আলাদা হয়ে গিয়ে জাসদ গঠন করে। ৭৩ সাল থেকে শেখ মুজিবের মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে ওঠে জাসদ। তখন শেখ মুজিব আবার ইসলামপন্থীদের সাহায্য পেতে চান। মাদরাসাগুলো চালু করতে চান। তাছাড়া দেশের এই অচলাবস্থায় সে মধ্যপ্রাচ্যের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করে।
এক্ষেত্রে ভারত ও ইংল্যান্ড তাকে দুইটি আলাদা পরামর্শ দেয়। ভারতের পরামর্শ ছিল মাদরাসাগুলো চালু করার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেন হুসাইন আহমেদ মাদানীর অনুসারীদের তত্বাবধানে চালু করা হয়। হুসাইন আহমেদ মাদানী ছিলেন কংগ্রেসপন্থী মুসলিম নেতা যিনি ১৯৪৭ সালে হিন্দুদের সাথে মিলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধীতা করেছিলেন। ইন্দিরার এই পরামর্শের কারণ এই আলেমরা ইন্ডিয়ার স্বার্থ সংরক্ষণ করবে।
ইংল্যান্ডের পরামর্শ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা পাওয়ার দরকার নেই। নতুন করে হজ্ব চালু করো। তোমরা বিশ্বের লার্জেস্ট মুসলিম কান্ট্রি। তোমাদের দেশেই হজ্বের বিকল্প তৈরি করো। তাবলীগ জামায়াতের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতো কাকরাইল মসজিদকে কেন্দ্র করে রমনায়। এটা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হতো। এই সম্মেলন ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ব্রিটেনের পরামর্শ অনুযায়ী ১৯৭৩ সাল থেকে শেখ মুজিব তথা রাষ্ট্রীয় তত্বাবধানে টঙ্গিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে থাকে। টঙ্গিতে ১৬০ একর জমি বরাদ্দ হয় এই বিশ্ব ইজতেমার জন্য। সারা পৃথিবীতে তাবলীগের কর্মীদের মাধ্যমে এই প্রচারণা চালানো হয় যে, এখানে জয়েন করলে হজ্বের সওয়াব পাওয়া যাবে।
শেখ মুজিবের সময়ে এমন কিছু জালিমদের পাওয়া গেছে যারা অন্য নেজামে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাদ্রাসা দখল করেছে। আরো কিছু বড় আলিম নামের জালিম পাওয়া গেছে যারা বিশ্ব ইজতেমাকে হজ্বের সমান বলে ফতোয়া দিয়েছে। এখানে (টঙ্গিতে) নামাজ পড়লে মক্কায় নামাজ পড়ার চাইতেও বেশি সওয়াব হবে বলে প্রচার করেছে। এই নিয়ে তারা বইও লিখেছে।
https://www.facebook.com/
61560107893005/posts/122140077236336929/?rdid=dUYqZSKC9xc4U6lo
Comments
Post a Comment