অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রদান কমিটি আজকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের শ্বেতপত্র অফিসিয়ালি হস্তান্তর করেছে। কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, যার ক্রেডিবিলিটি নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। এছাড়া, আরো যারা যারা আছেন, প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট কাজে সেরা সেরা লোক, রাজনৈতিকভাবে বায়াসড হবার কোন অতীত ইতিহাসও তাদের নাই।
তো, সেই কমিটির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩, এ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ পাচার করেছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে, খেলাপী ঋণের সম্ভাবনায় রয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকার উপরে, যা দিয়ে বানানো সম্ভব হতো ২২ টা পদ্মা সেতু, ১৩ টা মেট্রোরেল প্রজেক্ট। জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ খাতের উপর সেই ৪০০ পেইজের রিপোর্টে একটি অধ্যায় আছে, যার শিরোনামটাই চমকপ্রদ, A System designed for corruption. "। এমন একটি প্রক্রিয়া, যেটাকে বানানোই হয়েছে দুর্নীতি করার জন্যে। ৩০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ০৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে প্রজেক্ট শুরু করার আগে কমিশন দেয়ার কাজে, আর বাদ বাকি প্রজেক্ট চলাকালীন এবং পরবর্তী দুর্নীতি বাদই দেয়া হলো।
২৯ টা মেগাপ্রজেক্টের মধ্যে ১০ টা নিয়ে পর্যালোচনা করে কমিটি বের করেছে, মিসম্যানেজমেন্ট, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দূর্বল প্রজেক্ট ইভালুয়েশান-- ইত্যাদি কারণে বাজেটের চেয়ে ব্যয় প্রায় ৭০ পার্সেন্ট বেড়ে গেছে। অধিকাংশ করা হয়েছে বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে, যেগুলোর শর্ত খুব কঠিন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যে চরম বোঝা স্বরূপ। অচিরেই ঋণের ভারে ন্যুব্জ হয়ে যাবে এ দেশ, যা অলরেডি সেদিকেই আগাচ্ছে৷
রিপোর্ট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূস বলেছেন," আমাদের রক্ত শীতল হয়ে যাচ্ছে, দুর্নীতির মাত্রা দেখে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, এসব হয়েছে নগ্নভাবে, সবার সামনে৷ "
ভাইসব!
এগুলো বাস্তবতা। ধ্বংসস্তুপের কিনারায় ফেলে রেখে পিশাচিনীটা এ দেশ থেকে পালিয়েছে৷ পালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বিদেশের মাটিতে বসে দেশটাকে অস্থিতিশীল করার জন্যে যা যা করার দরকার, সব করে যাচ্ছে। সে দেশে নাই, তার ছেলে মেয়ে কেউ দেশে নাই।নিকটাত্মীয়, দলের নেতা সব এমন লেভেলের চুরি করেছে, যেটাকে পাহাড়সম বললেও কম বলা হবে। তারা বসে বসে বিদেশে মজা লুটতেছে। আর আপনারা, এখনো যারা এদের সমর্থক, তারা দেশেই আছেন, আপনাদের ছেলেপিলেও দেশেই বড় হবে।
কি এক ভয়াবহ বিপদের মুখে আপনার প্রজন্মকে এরা ঠেলে দিয়েছে। ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ঠিক কত টাকা আপনি জানেন? রাতে শুয়ে শুয়ে চিন্তা করে দেখতে পারেন।
এক মিলিয়ন মানে দশ লাখ, এক হাজার মিলিয়ন মানে এক বিলিয়ন।
এ টাকাটা দেশে থাকলে কি হতো আজকে দেশের অবস্থা।
এ অভিশপ্ত পরিবার নরকের তলা থেকে উঠে এসেছে, আল্লাহর গযব হিসাবে, এ দেশটাকে ভস্মীভূত করার মিশন নিয়ে। এদেরকে ঘৃণা না করে উপায় কি?
অর্থনৈতিক এ শ্বেতপত্র পড়েও যদি কেউ একে বিএনপির আমলে তারেক রহমানের খাম্বা চুরি, চাকরির নিয়োগে দুর্নীতির কথা বলে তুলনা করে আওয়ামীলীগের শাসনকে জাস্টিফাই করতে চায়, তাহলে আমি নিশ্চিত, উপযুক্ত মূল্য পেলে এরা নিজেদের পরিবারের নারীদেরকেও নিলামে তুলতে পারবে।
© Fatin Hasnat Rizvi
Comments
Post a Comment